/

বিসিসি মেয়রের অনন্য উদ্যোগ, ঘরমুখো যাত্রীদের দূর্ভোগ লাঘবে বরিশালে ফ্রী বাস সার্ভিস

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, ঈদের মৌসুমে ঢাকা থেকে বরিশাল নদীবন্দরে লঞ্চগুলো পৌঁছে মধ্যরাতের পর। ওই সময় বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার বাসিন্দাদের নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। একসঙ্গে অনেকগুলো যাত্রীবাহী লঞ্চ নদীবন্দরে নোঙর করায় যাত্রীদের চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে নদীবন্দর থেকে নগরীর রুপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালসহ স্বল্প দূরত্বে যেতে সিএনজি অটোরিকশা, অটোরিকশা, রিকশা সংকটে পড়েন যাত্রীরা। বিপদে পড়েন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা। এই সমস্যার সমাধানে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দে গন্তব্যে যেতে নদীবন্দর থেকে দুই বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ফ্রি বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো যাত্রীদের বরণ করতে ইতিমধ্যে বরিশাল প্রশাসন নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের কর্মকর্তাদের নিয়ে কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করছে, দিচ্ছে জনভোগান্তি রোধে নানান দিকনির্দেশনা। বিশেষ করে এবারের ঈদে বরিশাল নৌবন্দরে জনস্রোত আসার বিষয়টিকে এক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভোগান্তি লাঘবে এবার আগেভাগেই মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

প্রশাসনের এমন ইতিবাচক উদ্যোগের মধ্যে ঘরমুখো যাত্রীদের একটি সুখবর দিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। গভীর রাতে বরিশাল নৌবন্দরে আসা যাত্রীদের শহরের দুইপ্রান্তে দুটি বাসস্ট্যান্ডে নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী পৌছে দিতে তিনি ফ্রি বাস দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার বিকেলে নগরীর বরিশাল ক্লাবের হলরুমে আয়োজিত ঈদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমন্বয় সভায় এই ঘোষণা দেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ।

অবশ্য সিটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরে ২০১৮ সালের ঈদেও তিনি ঘরমুখো যাত্রীদের সেবায় ফ্রি বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, ঈদে রাজধানী থেকে বরিশাল নদী বন্দরে পৌঁছানো যাত্রীদের নগরীর দুই বাস টার্মিনাল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ফ্রি বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে এই বাস সার্ভিস শুরু হবে। ঈদের পরেও রাজধানী ঢাকামুখী যাত্রীদের নৌবন্দরে নিয়ে আসতে এই সার্ভিস চালু থাকবে।

রোববার বিকেলের ওই সভায় সিটি মেয়র বলেন- ঈদের মৌসুমে ঢাকা থেকে বরিশাল নদীবন্দরে লঞ্চগুলো পৌঁছে মধ্যরাতের পর। ওই সময় বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার বাসিন্দাদের নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। একসঙ্গে অনেকগুলো যাত্রীবাহী লঞ্চ নদীবন্দরে নোঙর করায় যাত্রীদের চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে নদীবন্দর থেকে নগরীর রুপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালসহ স্বল্প দূরত্বে যেতে সিএনজি অটোরিকশা, অটোরিকশা, রিকশা সংকটে পড়েন যাত্রীরা। বিপদে পড়েন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা। এই সমস্যার সমাধানে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দে গন্তব্যে যেতে নদীবন্দর থেকে দুই বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ফ্রি বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেয়র আরও বলেন, বরিশাল নদীবন্দর থেকে আগামী ২৭ এপ্রিল মধ্যরাতে শুরু হবে ফ্রি বাস সার্ভিস। এই সার্ভিসে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস রাখা হয়েছে।

সিটি মেয়রের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে সুশীল মহল। এক্ষেত্রে অনেকের ভাষ্য হচ্ছে- সিটি মেয়র ঘরমুখো যাত্রীদের কথা চিন্তা করে ফ্রি বাস সার্ভিস দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি মেলবে। বিশেষে করে দুর-দুরন্তের যাত্রীরা নিরাপদে বাস টার্মিনালে পৌছাতে পারবে। ভোগান্তি রোধে মেয়রের এই উদ্যোগ প্রসংশার দাবি রাখে, মন্তব্য পাওয়া গেছে।

মেয়রের এমন উদ্যোগকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে ইতিমধ্যে তারা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, লঞ্চ মালিক ও বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে কয়েকটি বৈঠক করেছেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে ঈদ পূর্বাপর ১০ দিন নদীকে বাল্কহেড চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। এছাড়া যাত্রী ভোগান্তি রোধে বেশকিছু নির্দেশনা বিআইডব্লিউটিএ এবং লঞ্চ মালিকদের দেওয়া হয়েছে। তারা এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন।

এরই মধ্যে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ যাত্রীদের সুবিধার্থে ফ্রি বাস দেওয়ার ঘোষণা দিলেন। এতে বরিশাল নৌবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করেন জেলা প্রশাসক।’

বরিশাল ওয়াচ

বরিশাল ওয়াচ ডেস্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published.